লিঙ্কডইন নিয়ে যত কথা
- LinkedIn কি?
- কেনো লিংডইন একাউন্ট করবেন?
- কিভাবে একাউন্ট করবেন?
- কিভাবে প্রোফাইল সাজাবেন?
- লিংডইনে একাউন্ট করলে সুবিধা?
- লিংডইন কানেক্ট কি?
- কিভাবে কানেক্ট বাড়ানো যায় এবং পাঠাবেন?
- কাদেরকে কানেক্ট পাঠাবেন?
- লিংডইনে জব বা চাকুরি পাওয়ার সুযোগ বা পরিধি কেমন?
- কিভাবে আপনার স্কিল অনুযায়ী চাকুরির পেতে পারেন?
- ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লিংডইন কতটুকু ভূমিকা রাখছে?
- লিংডইন মার্কেটিং কি এবং কিভাবে করা হয়?
- কেনো লিংডইন এত জনপ্রিয়?
- সেলস্ নেভিগেটর কি? ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি?
- কিভাবে সেলস্ নেভিগেটর ব্যবহার করে ডাটা সংগ্রহ করবেন?
লিংডইন সম্পর্কে উপরে সকল প্রশ্নের উত্তর ধারাবাহিকভাবে নিম্নের লেখায় তুলে ধরা হলো
অন্যান্য সোসিয়েল মিডিয়ার মতো লিংডইন একটি জনপ্রিয় ও প্রফেশনাল সোসিয়েল মিডিয়া প্লাটফর্ম। এখানেও প্রোফাইল সাজানো, পোষ্ট করা, কমেন্ট করা, বিজনেস অথবা পারসোনাল পেইজ খোলা, গ্রুপ ক্রিয়েট, কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট (কানেক্ট) পাঠানো, মেসেজ করা সব কিছুই করা যায় ঠিক ফেসবুকের মতো।
তবে এখানে ফেসবুকের মতো আবেগ অনুভূতি শেয়ার করা গেলেও কেউ তা করে না।
কারন পুরো বিশ্বের সব প্রফেশনাল মানুষ কর্মরত বা স্টুডেন্ট, বা ব্যবসায়ী, সেল্ফ ডিপেন্ডেড অথবা লার্নার এখানে একাউন্ট করে তাদের প্রফেশনাল আইডেন্টিটি বা পরিচিতি তুলে ধরার জন্য, যাতে লিংডইন এর মাধ্যমে সকলের মধ্যে যেনো একটি প্রফেশনাল ভার্চুল কমিউনিটি গড়ে উঠে।
এতে লাভ হচ্ছে এই কমিউনিটির মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবসায়িক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত অবস্থান গুলো ডেভেলপ হয় এবং যাতে দেশীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমান তালে নিজেদের উন্নতি সাধন করতে পারে।
কেনো লিংডইনে একাউন্ট করবেন?
আপনি স্টুডেন্ট, শিক্ষক, ডক্টর, ইন্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, কোম্পানির মালিক, ম্যনেজার, স্টাফ, সেল্ফ ডিপেন্ডেড যাই হন না কেনো আপনার একটি লিংডইন একাউন্ট থাকা জুরুরী। নিজেকে একজন প্রফেশনাল ব্যক্তি হিসেবে এই প্রতিযোগিতা মুলক বিশ্বে তুলে ধরতে লিংডইন ই হচ্ছে একমাত্র প্লাটফর্ম।
কিভাবে প্রোফাইল সাজাবেন?
লিংডইনের যত প্রোফাইল ফিচার বা অপশন আছে তার সব গুলোতেই ইনফরমেশন যুক্ত করতে হবে। এখন কথা হচ্ছে আপনার যদি ওই অপশন বা তথ্য দেয়ার জাগায় তথ্য দেয়ার মতো কোন তথ্য না থাকে তবে জায়গাটি খালি রাখুন। এই সব তথ্যই আপনার একাউন্টে সিভি বা রিজিউম এর মতো কাজ করবে। এই তথ্য গুলো দেয়ার জন্য প্রফেশনাল কোন ব্যাক্তির প্রোফাইল দেখলে খুব সহজেই বুঝবেন কোথায় কিভাবে তথ্য গুলো দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আরো ভালো হয় আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে মিল আছে এমন কারো প্রোফাইল খুজে বের করুন এবং তার প্রোফাইলে কোথায় কি আছে ফলো করুন। তবে কপি করবেন না করার চেষ্টা করবেন।
লিংকডইন একাউন্ট করলে সুবিধা?
এখানে একাউন্ট করলে অসুবিধার বিন্দু মাত্র রেশ নেই। আপনার একটা পরিচিতি বা আইডেন্টিটি বিশ্বের যে কোন প্রান্তের মানুষ মুহূর্তেই দেখতে পাচ্ছে। আপনার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে মানুষই আপনাকে খুজে নিচ্ছে। সব চেয়ে বড় কথা লিংকডইনে জব পাওয়ার বিশাল একটা সুযোগ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তাই সুবিধা ও সুযোগ বলে শেষ করার মতো না।
লিংকডইন কানেক্ট কি?
একদমই সহজে বলতে গেলে কানেক্ট কাজ করে ফেসবুকের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর মতো, একই কাজ। মজার ব্যপার হলো এখানে কিনতু কাউকে মজা করার জন্য অথবা যে কাউকে ফ্রেন্ড বানানোর জন্য রিকোয়েস্ট পাঠানো হয় না, যেহেতু প্রফেশনাল জায়গা, তাই প্রফেশনালদের সাথে কানেক্ট বা যোগাযোগ রক্ষা করতে এই অপশনটির নাম দেয়া হয়েছে Connect
কিভাবে কানেক্ট বাড়ানো যায় এবং পাঠাবেন?
কানেক্ট বাটনে ক্লিক করলেই কানেক্ট চলে যায়, যাকে তাকে কানেক্ট না পাঠিয়ে প্রফেশনাল যারা আছে তাদেরকে কানেক্ট রিকোয়েস্ট পাঠাবেন। প্রফেশনাল বলতে যারা কর্পোরেট কোম্পানি বা নিজস্ব বিজনেস করে থাকে। কারন তাদের সাথে কানেক্ট হওয়ার দ্বারা আপনি যেমন নানা ধরনের কর্পোরেট কাজ সম্পর্কে জানতে পারবেন তেমনে তাদের কাজের জন্য তারা আপনাকে আপনার যোগ্যতার উপর ডিপেন্ড করে হায়ার করবে। কখনো তারা আপনাকে মাসিক স্যালিরতে হায়ার করতে পারে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় এবং কাজের জন্য হায়ার করতে পারে।
লিংডইনে জব বা চাকুরি পাওয়ার সুযোগ বা পরিধি কেমন?
এখানে Job নামে Menu বার এ একটি অপশন আছে, সেখানে সারা বিশ্বের সকল দেশের জব পোষ্ট অথবা জব বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাবেন। এখানে দেশ ভেদে বিভিন্ন কোমম্পানির জব দেখতে পাবেন, জব গুলো আপনার প্রোফাইলে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রদর্শিত হবে। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট পদ বা কাজের জন্য জব সার্চ করতে পারেন এবং জব গুলোতে এপ্লাই করতে পারেন। লিংকডইনে যখন জব এপ্লাই করবেন, সেখানে জব পোষ্টে এপ্লাই বাটনে ক্লিক করলে পোষ্ট দাতা যদি কোন প্রশ্ন সেট করে রাখে তাহলে সেগুলো উওর প্রদান করে আপনাকে এপ্লাই সম্পন্ন করতে হবে, যদি প্রশ্ন দেয়া না থাকে তবে এপ্লাই বাটনে ক্লিক করলেই এপ্লাই হয়ে গেলো আপনাকে কোন তথ্য দিতে হবে না, জব পোষ্ট দাতার কাছে আপনার প্রোফাইলের তথ্য অনুসারে সকল তথ্য প্রদর্শিত হবে। জব এপ্লাই করার পূর্বে আপনার সকল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা, বর্তমান কাজের এবং পদ এর অবস্থান, উচ্চপদস্থ ২-৩ জন ব্যক্তির রেফারেন্স ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন বিষয় গুলো অবশ্যই যুক্ত করবেন যদি সম্ভব হয়। ফ্রেশার হলে কিছু বিষয়ে স্কিল অর্জন করে নিন, যে স্কিল গুলো আপনাকে জব পেতে একধাপ এগিয়ে রাখবে।
জব স্কিল নিয়ে আমি খুব শিঘ্রই একটি পোষ্ট করবো, ইমেইলে নতুন পোষ্টের নোটিফিকেশন পেতে এখনই ব্লগ সাইটটি ইমেইলের মাধ্যমে সাবসক্রাইব করে রাখুন।
ফ্রিল্যান্সিং পেশায় যারা আছেন ইন্টারন্যশনাল জব গুলো ঘরে বসেই রিমোটলি পেতে এবং কাজ করতে লিংকডইনের ভূমিকা বুঝতেই পারছেন। জব এর স্যালারী আপনি সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার অথবা পেপাল বা পেওনিয়ার এর মাধ্যমে নিতে পারেন। উল্লেখ্য যে ক্লাইন্ট অধিক ক্ষেত্রে ৫০% পেমেন্ট অগ্রিম করে থাকে, এটা নির্ভর করে আপনি ক্লাইন্ট এর কাছে নিজেকে কতটা বিশ্বস্ত হিসেবে প্রমান করতে পারবেন। ভালো পোর্টফোলিও এবং প্রিমিয়াম ডোমেইন এর নিজস্ব ওয়েবসাইট এক্ষেত্রে আপনাকে ক্লাইন্টের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলতে অধিক ভুমিকা রাখবে। তাই সময় নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলুন। দেশীয় জব পেতেও লিংডইনের তুলনা অপরিসীম।
কিভাবে আপনার স্কিল অনুযায়ী চাকুরী বা জব পেতে পারেন?
আপনার স্কিল অনুযায়ী চাকুরী পেতে প্রোফাইলে যে জায়গা গুলোতে কীওয়ার্ড দিতে হয় সেখানে আপনার ভিন্ন ভিন্ন স্কিল গুলো কীওয়ার্ড হিসেবে রাখতে হবে, যেনো সার্চ ইঞ্জিন খুব সহযেই আপনার প্রোফাইল এবং স্কিল ক্যাটাগরী বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আপনাকে জব পোষ্ট প্রদর্শন করতে পারে। তাই সম্পূর্ণ প্রোফাইলে আপনার স্কিল এর কীওয়ার্ড গুলো রাখুন। যেমন ধরুন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এ কাজ করছেন, এটি হচ্ছে মুল একক কীওয়ার্ড তবে এর ভেতর আরো অনেক ভাগ রয়েছে, যেমন ফেসবুক মার্কেটিং, গুগল মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং, এসইও ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লিংডইন কতটুকু ভূমিকা রাখছে?
যারা ফ্রিল্যান্সার আছেন, তাদের লোকাল জব এর ৭০% ই লিংকডইন থেকে জব পেয়ে থাকেন অথবা হায়ার হয়ে থাকেন। খুব শিঘ্রই লিংডইন ফাইভার ও আপওয়ার্কের মতো নিজস্ব মার্কেটপ্লেস উদ্ভোদন করতে যাচ্ছে। এটি সম্প্রতি তাদের ফোরাম সাইটে ঘোষনা করছে লিংডইন। আর লিংডইন হচ্ছে ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর তথ্য বা ডাটার একটি বিশাল সমরাজ্য। তাই এতটুকু বুঝে নিতে হবে, তাদের নিজেদের মার্কেটপ্লেসের জন্য মার্কেটিং কতটা সহজ এবং কতটা ইফেক্টিব হবে। আর তারা অবশ্যই ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বায়ার এর কাছে এডভারটাইজের মাধ্যমে খুব দ্রত পৌছাতে পারবে। এতে বায়ার বেশি পরিমানে আসবে, কাজও বেশি পরিমানে হবে, যা চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি একটি বিশাল কল্যানজনক প্লাটফর্ম হতে চলেছে।
কেনো লিংডইন এত জনপ্রিয়? লিংডইন মার্কেটিং কি এবং কিভাবে করা হয়?
অলস, অনভিজ্ঞ, অযোগ্য, টাইম পাস প্রিয়, বিনোদন প্রিয় যারা আছে তাদের জন্য লিংডইন জনপ্রিয় বলা ভুল হবে। কারন এখানে ফান ফূর্তি কোনটাই নেই, আছে শুধু স্কিল আর যোগ্য সম্পন্ন মানুষদের বিচরন। আর তাই প্রফেশনাল স্কিল আছে এবং যারা কাজ প্রিয় তাদের জন্য এই প্লাটফর্ম আনন্দ, শিক্ষা, জ্ঞান ইত্যাদির সম্ভার।
এখন চলুন লিংডইন মার্কেটিং সম্পর্কে জানি।
লিংডইনে কোন প্রডাক্ট বা পন্যের মার্কেটিং এর চেয়ে কোন কর্পোরেট বা বিজনেস সার্ভিস এর মার্কেটিং বেশি হয়ে থাকে। যেমন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান তাদের সফটওয়্যার বিক্রয়ের জন্য মার্কেটিং করে থাকে। এখানে পোশাক, খাবার, ইলেকট্রনিকস পণ্য সামগ্রী বিক্রয় দেখা যায় না বললেই চলে তবে ওই ক্যটাগরীতে যারা বিজনেস করে তাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক একাউন্ট দেখতে পাওয়া যায়।
লিংডইন মার্কেটিং আসলে করে কিভাবে?
এখানে এডস এর মাধ্যমে মার্কেটিং এর তুলনামূলকভাবে খরচ বেশি, কারন এখানে একটি এড পাবলিশ করলে ৯০% আসল অডিয়েন্স পাওয়া যায়। অন্য প্লাটফর্মে এড এর মাধ্যমে বিক্রয় পাওয়া প্রতিযোগিতামুলক। কারন সেখানে নানা ধরনের অডিয়েন্স থাকে। আর সেখানে টাইম পাস করার মতো মানুষের আনাগোনা বেশি, যেটা লিংডইনে কম।
তাই সঠিকভাবে মার্কেটিং করলে এখান থেকে ভালো একটা অডিয়েন্স রেসপন্স পাওয়া যায়।
সেলস্ নেভিগেটর কি? ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি? কিভাবে সেলস্ নেভিগেটর ব্যবহার করে ডাটা সংগ্রহ করবেন?
সেলস্ নেভিগেটর হচ্ছে লিংডইনের এমন একটি টুলস যা ব্যবহার করলে আপনি ফিল্টারিং করে আপনার পছন্দ মতো ডাটা লিংডইনের জমাকৃত ডাটাবেজ থেকে পেতে পারেন।
এখানে কোম্পানি ক্যটাগরী, কোম্পানির কর্মকর্তা সংখ্যা, দেশ, কোম্পানির রেভিনিউ স্কেল, কর্মরত পদ, ইত্যাদি আলাদা ভাবে নির্বাচন করে শুধু সাবমিট করলেই আপনাকে ওই অনুযায়ী ডাটা প্রদর্শন করবে, এবং আপনি খুব সহজেই সেই ডাটা গুলোকে মেনুয়ালি বা অটোমেটিক পদ্ধতিতে নিজের কাছে সংগ্রহ করতে পারেন। এই সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারনা পেতে youtube থেকে একটি ভিডিও দেখে ফেলুন এখনই।
মোটামোটি এই ছিলো লিঙ্কডিন সম্পর্কে যত কথা, বললে আরো বলা যেতো তবে আজ এই পর্যন্তই আবারো কোন গুরুত্বপূর্ন টপিক নিয়ে লিখবো। সাথেই থাকুন এবং কমেন্ট করে জানাবেন লেখাটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। অবশ্যাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে ভুলবেন না।
Facebook Group: Click Here
ধন্যবাদ

0 Comments