ফেসবুক মার্কেটিং করে আয় | ২০২২ সালে ফেসবুক মার্কেটিং কেমন হবে?
প্রায় 140,0000,000 (কোটি ) ইউজার নিয়ে ফেসবুক পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।
মেসেজ আদান প্রদান, অনুভূতি শেয়ার, লাইক, কমেন্টের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য ফেসবুক ঘটিয়েছে বিপ্লবী ঘটনা। ব্যবসায়ীরা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালিয়ে খুব অল্প সময়ে সারা বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে এবং তাদের পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রচুর লাভবান হচ্ছে।
ডিজিটাল যুগে ছোট জন্য ফেসবুক মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। অল্প সময়ে কাস্টমার পেতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের অপরিসীম।
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে হলে অর্থ বিনিয়োগ করে বিজ্ঞাপন দিতে হয় সঠিকভাবে মার্কেট রিসার্চ না করে অথবা যাচাই-বাছাই না করে যদি বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তাহলে সে বিজ্ঞাপন থেকে আগের চেয়ে বেশি থাকবে।
ফেসবুক মার্কেটিং দুইভাবে করা যায় একটি হচ্ছে পেইড মার্কেটিং আরেকটি হচ্ছে ফ্রি মার্কেটিং।
প্রথমে কথা বলব ফ্রি মার্কেটিং নিয়ে-
আপনার কোন একটি পণ্য কে আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন এটি হচ্ছে ফ্রি মার্কেটিং।যেমন ধরুন আপনার একটি মোবাইল ফোন শপ রয়েছে, আপনি আপনার ফোন বিক্রয় করার জন্য আপনার ফোনের পোস্ট বিভিন্ন গ্রুপে কমেন্টে ওয়েবসাইটে শেয়ার করলেন, এতে করে আপনার পোস্টটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে গেল এবং সেখান থেকে একটি ভালো বিক্রয় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি হচ্ছে ফ্রি মার্কেটিং। মানে আপনি আপনার নিজের বিজ্ঞাপন নিজেই প্রচার করতে পারছেন যেটি করতে আপনাকে কোনো বিজ্ঞাপন অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না।
এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক এই মার্কেটিং নিয়ে-
পেইড মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ফেসবুক। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, টিক টক, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদি নানা ধরনের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।
আজকে যে তুমি ফেসবুক নিয়ে কথা বলছি তাই ফেসবুক মার্কেটিং এর বিস্তারিত আলোচনা করবো। অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম এর পেইজ মার্কেটিং সম্পর্কে আমার এই ব্লগ থেকেই পোস্ট পেয়ে যাবেন।
ফেসবুক পেইড মার্কেটিং-
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালাতে সর্বপ্রথমেই আপনার ডুয়েল কারেন্সি মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ড প্রয়োজন পড়বে। ডুয়েল কারেন্সি কার্ড প্রদান করে এমন যেকোনো ব্যাংকের কার্ড আপনি নিতে পারেন। এরপর আপনাকে ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে, এবং আপনার সঠিক তথ্য দিয়ে বিজনেস ম্যানেজার ভেরিফাই করতে হবে। এরপর বিজনেস ম্যানেজার থেকে আপনাকে একটি এড ম্যানেজার একাউন্ট করতে হবে। সেই অ্যাড ম্যানেজার অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। আপনি যদি প্রক্রিয়া গুলোতে একদমই নতুন হয়ে থাকেন তাহলে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও রয়েছে ফেসবুক বিজ্ঞাপন পরিচালনা সম্পর্কে, সেখান থেকে আপনি পাঁচ থেকে সাত দিন সময় দিয়ে খুব ভালোভাবে ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন অথবা বিজ্ঞাপন চালানো শিখতে পারেন।
ফেসবুক বুস্ট এবং ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন এর মধ্যে পার্থক্য-
ফেসবুক বুস্ট-
ফেসবুক বুস্ট হচ্ছে খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া, যারা টেকনোলজির অপশন এবং খুঁটিনাটি সম্পর্কে কম বুঝেন তাদের জন্য ফেসবুক এই প্রক্রিয়াটি রেখেছে। ফেসবুক পোস্ট করে আপনি বিজ্ঞাপন চালালে সেখান থেকে খুব ভালো একটা ফলাফল পাবেন না কারণ সেখানে আপনার অডিয়েন্সকে টার্গেট করার জন্য ডিটেইল অপশনগুলো নেই। সেখানে শুধুমাত্র আপনার বাজেট আপনার অডিয়েন্সের বয়স আপনার অডিয়েন্সের জেন্ডার অডিয়েন্সের জন্য টার্গেট লোকেশন এই বিষয় গুলো পাবেন।
ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন-
ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন হচ্ছে অ্যাডভান্স এড ক্যাম্পেইন চালানোর টুলস, যেখানে আপনি একটি বিজ্ঞাপন এর জন্য বাজেট অপটিমাইজ করতে পারবেন, বিজ্ঞাপনটি অপটিমাইজ করতে পারবেন। সেখানে অনেক নিখুঁতভাবে আপনার অডিয়েন্সকে টার্গেট করার জন্য অপশন রয়েছে। বুষ্টিং এর মতই আপনি আপনার অডিয়েন্সকে আরো অ্যাডভান্স ভাবে টার্গেট করতে পারবেন এবং সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এটি যে, ফেসবুক এড ম্যানেজার থেকে আপনি আপনার অডিয়েন্সকে রিটারগেটিং এবং রি মার্কেটিং করতে পারবেন। মানে হচ্ছে আপনি একবার বিজ্ঞাপন চালানোর পর যারা আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়েছে বা আপনার চালানো ওই বিজ্ঞাপনে এংগেজ হয়েছে বা আপনার বিজ্ঞাপন থেকে সে আপনার ওয়েবসাইটে এসে কোন একটি পণ্য কিনেছে তার কাছে আপনি পুনরায় আপনার নতুন কোন পণ্যের জন্য বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। এই কাজটি করতে হলে অবশ্যই আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে এবং সেই ওয়েবসাইডে ফেইসবুক পিক্সেল ব্যবহার করতে হবে তবেই আপনি আপনার চালানো অ্যাড ক্যাম্পেইনে অডিয়েন্স গুলোকে পিক্সেল এর মাধ্যমে সেভ রাখতে পারবেন অথবা ধরে রাখতে পারবেন। রি-মার্কেটিং থেকে আপনার পণ্যের বিক্রয় পাওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে।
ফেসবুক মার্কেটিং করে আয়-
এইতো গেলো ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে আলোচনা। আপনি যদি ফেসবুক মার্কেটিং শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে সার্ভিস দিতে চান তাহলে ফেসবুক মার্কেটিং হবে আপনারা এর অন্যতম একটি আয়ের উৎস। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক কোম্পানি অথবা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথবা কোম্পানি তৈরি হচ্ছে এবং তাদের প্রচারণা কাজের জন্য একজন দক্ষ advertise প্রয়োজন হয়। তাই আপনি যদি নিজেকে একজন দক্ষ ফেসবুক মার্কেটের অথবা অ্যাডভারটাইজার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে আপনি কাজ করতে পারেন। বর্তমানে মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক পরিমানে কম্পিটিশন বেড়ে গিয়েছে। নতুনদের অনেকটা স্ট্রাগল করতে হচ্ছে। তবে বুঝে শুনে কাজ করলে আর ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করলে সফলতা পাওয়া সম্ভব। যেহেতু কোম্পানি বাড়ছে আর ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য যে কোম্পানি গুলো সেলার হায়ার করে তারা একই সেলারের কাছ থেকে বার বার অর্ডার নিবে এমনটা নয়। তারা প্রায়ই একটি সময় পর সেলার বা এডভারটাইজার পরিবর্তন করে থাকে। অনেক কোম্পানি নতুনদের কথা চিন্তা করে নতুন সেলারদের সুযোগ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোম্পানি গুলো কম টাকায় ভালো কাজ করিয়ে নিতে চায় আর আপনারও উচিত নতুন হিসেবে টাকার দিকে না তাকিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং কাজ করা। তবে এতটাই কম টাকায় কাজ করা ঠিক না যা ওই কাজের মানকে নষ্ট করে এবং যা অন্যদের জন্য ক্ষতি কর। কারন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে আপনার কাজের ডিমান্ড থাকবে ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে আপনি সেটি আপনার লোকেশনের সাথে তুলনা করে করতে পারেন না। এতে পরবর্তিতে আপনাকেই মাশুল গুনতে হবে। খেটে যাবেন অনেক টাকা পাবেন কম।


0 Comments